চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক পুজো। Photo Walk Update। রূপম ঘোষ

বালুরঘাট, ১৪ এপ্রিল ২০২৩
রূপম ঘোষ
___________

বাংলা বছরের শুরু হয় পয়লা বৈশাখ দিয়ে আর বাংলা বছরের শেষ হয় সংক্রান্তির মাধ্যমে। পয়লা বৈশাখের আগের দিন থাকে চৈত্র সংক্রান্তি। এই দিন হয় চড়ক পুজো যা বাঙ্গালীদের অন্যতম উৎসব। চড়ক পুজোর ঠিক আগের দিনই থাকে নীল ষষ্ঠী। নতুন বছরে প্রথম কয়েকদিন চড়ক পুজোর উৎসব চলতে থাকে।

BPC Archive





এই বছর চড়ক পূজা ১৪ এপ্রিল শুক্রবার পড়েছে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা চড়ক পুজোর সূচনা নিয়ে নানা রকম মতভেদ রয়েছে।

চড়ক পুজোর বেশ কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। চড়ক পুজোর আগের দিন অর্থাৎ নীল ষষ্ঠীর দিন চড়ক গাছকে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে, জলভরা একটি পাত্রে শিবের প্রতীক হিসেবে একটি লিঙ্গ স্থাপন করা হয়। এই প্রতীক শিবলিঙ্গটি বুড়ো শিব নামে পরিচিত। ভোর বেলা সন্ন্যাসীরা শ্মশান গিয়ে পুজো করেন এবং তাহারা বিভিন্ন সং সেজে হাতে নানা রকম অস্ত্র নিয়ে ঢাকের তালে নাচতে নাচতে পুজোর অনুষ্ঠান স্থলের দিকে যায়, এটি দেখার জন্য রাস্তার দুইপাশে বহু মানুষ ভিড় জমান।

© Pijush Barman | Balurghat | 2023
© Pijush Barman | Balurghat | 2023

© Pijush Barman | Balurghat | 2023


© Pijush Barman | Balurghat | 2023




এই চড়ক পুজোই হল গম্ভীরা এবং শিবের গাজনের রকমফের। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে অর্থাৎ চৈত্র মাসের শেষ দিনে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। আবার এই পুজোরই আর এক অঙ্গের নাম নীলপুজো। পুজোর আগে চড়কগাছের তল এবং চড়কগাছটি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নেওয়া হয়। এরপাশেই একটি পাত্রে জল ভরে তাতে শিব ঠাকুরের মূর্ত প্রতীক শিবলিঙ্গ রাখা হয়। তবে অনেক সময় আবার একটি লম্বা কাঠের তক্তায় সিঁদুর মাখিয়েও রাখা হয়, যাকে বলা হয়শিবের পাটা আর এটাই সকলের কাছেবুড়োশিবনামে প্রচলিত।

© Animesh Kumar Acharjee | Balurghat | 2022

© Animesh Kumar Acharjee | Balurghat | 2022

© Animesh Kumar Acharjee | Balurghat | 2022

© Animesh Kumar Acharjee | Balurghat | 2022

© Animesh Kumar Acharjee | Balurghat | 2022

© Animesh Kumar Acharjee | Balurghat | 2023



বাংলায় চড়ক পুজো আরও অন্য নামেও পরিচিত যেমন শিবের গাজন গম্ভীরা পুজো ইত্যাদি নামে চড়ক পুজো হয়। চড়ক পুজো এক এক জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রচলিত।

চড়ক পুজোর সময় চরক গাছের সঙ্গে ভক্তদের লোহার হুক দিয়ে বেঁধে ঘুরানোর রীতি রয়েছে এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও লোহা গেঁথে দেওয়া হয়, যা কিনা খুবই যন্ত্রনামূলক পরিস্থিতি তৈরি করে।

© Rupam Ghosh | Balurghat | 2023
© Rupam Ghosh | Balurghat | 2023

© Rupam Ghosh | Balurghat | 2023




১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ সরকার আইন করে এটি বন্ধ করে দিয়েছিল তবে আজও গ্রাম বাংলার চড়ক পুজো পালিত হয়। মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল গুলিতে এই উৎসব বেশি করে পালিত হয়।

© Dipankar Kundu | Balurghat | 2023

© Dipankar Kundu | Balurghat | 2023

© Dipankar Kundu | Balurghat | 2023


লোক কথা অনুসারী ১৪৮৫ সালে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামে এক রাজা চড়ক পুজোর আয়োজন করেছিল। তবে চড়ক কিন্তু রাজবাড়ীর পুজো ছিল না। রাজবাড়ীর লোকেরা যদিও এই পুজোর আয়োজন করতো। এই পুজো হিন্দু ধর্মের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সাধারণত পুজো করার সময় ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের লোকেরা পুজো করেন। সব পূজোতেই সেরকমই নিয়ম কিন্তু চড়ক পুজোর নিয়ম একটু আলাদা শোনা যায়। চড়ক পুজোর সন্ন্যাসীরা অর্থাৎ যারা পূজারী তারা হিন্দু ধর্মের হলেও কোনও ব্রাহ্মণ পুরোহিতের প্রয়োজন পড়ে না। এই পূজোয় পৌরহিত্য করেন পতিত ব্রাহ্মণেরা। এই পুজোতে জলন্ত ছাইয়ের উপর দিয়ে হাটা কিংবা ছুড়ি বা ধারালো কোনও কিছুর উপর লাফানো, শিবের বিয়ে নিয়ে নৃত্য ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। তবে বর্তমানে অনেক অনুষ্ঠান ভয়ঙ্করতার জন্যে অপসারণ করা হয়েছে।

© Subhradeep Sarkar | Balurghat | 2023
© Subhradeep Sarkar | Balurghat | 2023

© Subhradeep Sarkar | Balurghat | 2023

© Subhradeep Sarkar | Balurghat | 2023

 

অনেকেই সারা চৈত্র মাস ভিক্ষা করে চড়ক পুজোর আয়োজন করে। চৈত্র সংক্রান্তির দিন চড়ক পুজো হয়। বহু জায়গায় এই দিনে মেলা বসে এবং কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে এই মেলা। শিবের গাজন হয় এই মেলায়। পাশাপাশি চড়কের দিনে শরীরে বাণবিদ্ধ করে ঝোলেন সন্ন্যাসীরা। এনারা শরীরে বাণবিদ্ধ চড়কে চলন্ত অবস্থায় ছোটো শিশুদের কোলে নিয়ে ঘোরেন। তা যায় হোক, বা এখনকার সমাজের মানুষ যতই যা কিছু মনে করেন, তবুও মানুষ মনে বিশ্বাস নিয়ে আজও ভক্তিভরে চড়ক পুজো করে আসছেন।

© Abhik Mohanta | Balurghat | 2023

© Abhik Mohanta | Balurghat | 2023



© Subhra Chakraborty | Balurghat | 2021




© Subhra Chakraborty | Balurghat | 2021


© Subhra Chakraborty | Balurghat | 2021
_______________________________________________________

Article contributed by Rupam Ghosh for BPC.
April 2023.

BPC Archive


From the BPC editorial desk-

In this edition of the BPC Photo Walk update, member Rupam Ghosh takes over the BPC blog to talk about Charak Mela, and what makes it special. Photographs were contributed by the members of the collective.

We invite you to walk with us at the weekend.  Membership is absolutely free, forever!
Let's bond over a cup of tea. We are the Beltala Park Collective, and we love everything about photography.

Peace. ❤

BPC Archive



Comments