কুমোর থেকে মৃৎশিল্পীর গল্প। BPC Specials । পীযুষ বর্মন।
সাধারন
যে কখন অসাধারন হয়ে ওঠে,আবার অসাধারন যে কোন সাধারন থেকে ধরা দেয় তা
বোঝা সত্যি কঠিন। তেমনই এক অভিজ্ঞতার গল্প এই সাধারন কুমোর থেকে মৃৎশিল্পী
হয়ে ওঠার।
মাটি নিয়ে যাদের কারবার তাদের কাছেই তার বিভিন্নতা ধরা দেবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্ত সেই বিভিন্নতার মাত্রাটা কোন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার মাপকাঠি নির্ভর করে সেই মানুষ বা মানুষগুলোর শিল্পসত্তার উপর।
উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ শহর লাগোয়া এক জায়গা কুনোর, তারই রাস্তার ধারে ছোট্ট একটা পাড়া নাম আদর্শপাড়া। সেখানে গেলে দেখা যায় রাস্তার পাশে মাটির কারুকার্য করা বিভিন্ন পশু পাখি নিত্য প্রয়োজনীয় হাতে গড়া জিনিসপত্রের সম্ভার।
কৌতুহলবশত সেই পাড়ায় ঢুকে খোঁজখবর নেওয়াতে জানতে
পারলাম সেই পাড়ার সব বাড়িতেই মাটির জিনিসপত্র বানানো হয় এবং প্রত্যেক বাড়ি
আলাদা আলাদা মাটির জিনিসপত্র বানান। যেখানে শম্ভু রায় ছোট ছোট খেলনা বানাতে পারদর্শী,যেমন-
শীল নোড়া, বালতি,ঘোড়া আবার তার পাশের বাড়ি পূজোর আসবাবপত্র যেমন- পঞ্চপ্রদীপ, ধূপকাঠী দানী ইত্যাদি বানাতে পারদর্শী।
এত কিছু দেখার পর এই শিল্পীসত্তার মানুষটার সাথে
পরিচয় না করে থাকতে পারলাম না। এই
মৃৎশিল্পীর নাম দুলাল চন্দ্র রায়। প্রথমে
মাটির হাঁড়ি কলসি কুঁজো তৈরী করলেও এখন তিনি গয়না,মাটির বোতল, আশ্চর্য প্রদীপ,মাটির শঙ্খ তৈরী করেন।কাজের শুরুতে সাধারন পাত্রের
উপর নকশা করে বিভিন্ন মেলায় বা সরকারের বানিজ্য মেলায় প্রর্দশনী রূপে
যেতেন,সেখানেই খদ্দেরদের থেকে তাদের চাহিদা মতো নকশা এবং পাত্র তৈরী করতে করতে আজ
তার এই শিল্পকর্ম তার নিজের জেলা থেকে আশে পাশের জেলা,রাজ্য থেকে অন্য রজ্যেও বিখ্যাত
হয়ে উঠেছে। তার মতে পুরো উত্তরবঙ্গের কোথাও এই কারুকার্য এত
উন্নতি লাভ করেনি। তার
তৈরি করা এক বাক্স গয়নার ঝুলি দেখিয়ে বলেন এগুলো কেরলে যাবে।তাই
এতো তোরজোড় করে কাজ শেষ করছি। শুনে
অবাক আর গর্ব দুটোই একসাথে অনুভব করলাম।
পাশ দিয়ে সেইসময় একজন সাইকেলে করে মাটি নিয়ে যাচ্ছিল তাই দেখে দুলালবাবুকে বললাম মাটিগুলো কোথা থেকে নিয়ে আসছেন ? তিনি বললেন “পাশের এক বিল থেকে এইসময় আমরা এটেল মাটি মজুত করি,পরে বৃষ্টির ঋতু শুরু হলে আর মাটি পাওয়া যায়না।“ আবার প্রশ্ন করি “আপনি কি একা হাতে সব করেন ?" তিনি বললেন “না না, কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়েই সবটা করছি।" এই প্রশিক্ষন আপনি আর কোথাও দিয়েছেন ? উনি বললেন "হ্যা,আমি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যেমন দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি,বর্ধমান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় যাই প্রশিক্ষন দিতে।"
এই সামনের সিধেসাধা
মানুষটাকে দেখে সত্যিই ভাবুক হয়ে যেতে হয়,শিল্প আর শিল্পী বোধহয় এইভাবেই স্বাভাবিক
মেলবন্ধনে অস্বাভাবিক কিছু তৈরীর সত্ত্বা স্থাপন করে।তার পরনে জীর্নকায় মাটি মাখা
শার্ট বারবার সেটাই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আর মুখের গর্বিত চওড়া হাসি তার
শিল্পের প্রতি গভীরতার প্রত্যক্ষ প্রমান হয়ে ধরা দেয়।
বেঁচে থাকুক শিল্প এই শিল্পী এবং শিল্পসত্ত্বায়।
পীযুষ বর্মন
এপ্রিল ৫, ২০২৩।
_______________________________
In
this edition of the BPC Specials, member Pijush Barman presents a photo essay from one of his recent travels. BPC Specials is a new addition to our blog, this series will house the independent work of BPC members. More to come! Let's learn and unlearn together.
Feel
free to join the conversation or walk with us on the weekend. Let's bond
over a cup of tea. We are the Beltala Park Collective, and we love everything
about photography.



.jpg)




Comments
Post a Comment